খেলার খবর

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিতের মিশনে টাইগাররা

এ বছর টানা চতুর্থ সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের বে ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি  ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে।

প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে  নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নয় ম্যাচ হারের খড়া কাটাতে সক্ষম হয়  টাইগাররা।

এর আগে নিজ মাটিতে  তিন ম্যাচের সিরিজে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ, আয়ারল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এবং আফগানিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এ বছর তিনটি সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখায়  বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটে কোন সিরিজ না হেরে বছর শেষ করতে পারবে টাইগাররা।

ঘরের মাঠে এক বর্ষপঞ্জিতে ওয়ানডে ফরম্যাটে সব সিরিজ জয়ের অনন্য রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। কিন্তু ঘর ও বিদেশ মাটি মিলিয়ে যেকোন ফরম্যাটে সব সিরিজে অপরাজিত থাকার মাইলফলক এখনও অর্জন করতে পারেনি টাইগাররা।

বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘নেপিয়ারের জয়, মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে শেষ দুই টি-টোয়েন্টিতে আমাদের অনুপ্রেরণা দিবে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় টি-টোয়েন্টি আমাদের জন্য সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা এই সিরিজ জিততে চাই।’

দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টির ভেন্যুতে খেলতে নেমে বাংলাদেশ  আরও বেশি উজ্জীবিত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কারন এই ভেন্যুতেই গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মত টেস্ট জয়ের নজির গড়েছিলো টাইগাররা। ঐ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের আগে ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই কিউইদের মাঠে সব ম্যাচ হেরেছিলো বাংলাদেশ।

টেস্ট জয়ের পর ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও হারের বৃত্ত ভাঙার পথ খুঁজে পেয়েছে  টাইগাররা।

শান্ত বলেন, ‘ছেলেদের মধ্যে যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাস আছে। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পরের দুই ম্যাচের জন্য আমাদের পরিকল্পনা করা উচিত। আমি আশা করি, সবাই নিজেদের কাজ নিখুঁতভাবে করার জন্য সতর্ক থাকবে।’

নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে ১৩৪ রানের মধ্যে আটকে রাখার পরও প্রথম ম্যাচে সহজে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়ে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয় টাইগার বোলাররা। মাত্র ১ রানে কিউইদের ৩ উইকেট শিকার করেন শরিফুল-মাহেদিরা। যা টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বাজে শুরু।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সফল বোলার ছিলেন শরিফুল। মাহেদি ১৪ রানে ও মুস্তাফিজ ১৫ রানে ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ১৮ দশমিক ৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৩৬ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে দলের জয়ে অবদান রাখেন লিটন।

১৩৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৫তম ওভারে ৯৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিলো টাইগাররা। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন লিটন ও মাহেদি।

শান্ত জানান, এমন কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে রান তাড়া করা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তবে খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারবে বলেই বিশ্বাস ছিল তার।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত  এই ফরম্যাটে ১৮ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাাদেশ-নিউজিল্যান্ড। এরমধ্যে বাংলাদেশ জয় মাত্র ৪টিতে এবং নিউজিল্যান্ড জিতেছে ১৪টিতে।

বাংলাদেশ দল : নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদি হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, রনি তালুকদার, তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, আফিফ হোসেন, সৌম্য সরকার, মাহেদি হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম ও তানজিম হাসান।

নিউজিল্যান্ড দল : মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মার্ক চ্যাপম্যান, রাচীন রবীন্দ্র, জ্যাকব ডাফি, এডাম মিলনে, ড্যারিল মিচেল, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, বেন সিয়ার্স, টিম সাইফার্ট, ইশ সোধি ও টিম সাউদি।

সুত্রঃবাসস