‘সাংগঠনিক সফর শুরু করেছি, ভোটের মাধ্যমে সংসদে যেতে চাই’ : সারজিস
নগর প্রতিবেদক : তরুণদের নেতৃত্বাধীন নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, তারা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে তারা তৃণমূলের মানুষদের কাছে পৌঁছতে চান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংসদে যাওয়া তাদের উদ্দেশ্য বলে জানান জুলাই আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রংপুর নগরীর কেরামতিয়া মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।
নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই। সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে চাই। আজ থেকে সেই সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে। এই সফরের মধ্যদিয়ে মাঠে-ঘাটে অলিগলিতে মানুষের কাছে যেতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা তুলে ধরতে চাই। আমরা জনগণের কাছে জানতে চাই, তারা কী চায়। জনগণের চাওয়া পাওয়া নিয়ে, তাদের ভোটের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাই আমাদের লক্ষ্য
সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলা-উপজেলায় আমাদের দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এক মাসের মধ্যেই শুরু হবে। আমাদের সারাদেশে অনেক সমর্থক রয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। আমরা চব্বিশের স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
প্রার্থী মনোনয়নে কেমন চ্যালেঞ্জ দেখছেন ,সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে মাত্র এক মাসের দল এনসিপি। তাই সারাদেশে প্রার্থী মনোনয়নে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের লক্ষ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া। আমরা সেই লক্ষ নিয়েই কাজ করছি। যারা নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, তরুণদের নেতৃত্ব যারা পছন্দ করে, যারা সৎ, যোগ্য এমন মানুষকেই আমরা মনোনয়ন দিতে চাই। সেই লক্ষ নিয়ে ঈদ পরবর্তি সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ থেকে। আমরা সকল ধরনের চ্যালেঞ্চ নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি আর গণমুখি মানুষের রাজনীতি ছিল না। টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন কেনা, দিনের ভোট রাতে করা, অনির্বাচিত হয়েও সংসদে যাওয়া, এমন রাজনীতি হয়েছে। বাজেট নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, বিগত ১৬ বছরে সকল বাজেট ছিল অঞ্চলভিত্তিক। বাজেটের বেশির ভাগ গেছে দক্ষিণবঙ্গে। উত্তরবঙ্গ শুধু দিয়েই গেছে। এই অঞ্চলে ফসল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য উত্তরবঙ্গে উৎপাদন হয়। কিন্তু পাওয়ার সময় যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু পাইনি। তাই আমরা মনে করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উত্তরবঙ্গের জন্য যতুটুক বাজেট দরকার ততটুকু রাখবে। এই বিশ্বাস রাখতে চাই। কেননা বৈষম্য করে, অন্যায় করে যে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না, তার উদাহারণ হচ্ছে খুনি হাসিনা।
ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে সারজিস বলেন, প্রতিটা রাষ্ট্রের মধ্যে আন্তঃদেশীয় আদান প্রদানের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে অনেক দেশ ব্যবসা বাণিজ্য করছে। এটি আদি ঐতিহ্যভাবে চলে আসছে। তবে এগুলো সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। কারো একক নিয়ন্তণে নয়। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে। তবে সেটা হবে শ্রদ্ধা ও সম্পর্কের মাধ্যমে। এ সম্পর্কের জায়গা থেকে কেউ যদি ডমিনেট করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা আর চোখ রাঙানি দেখবো না। বাংলাদেশের সাথে ভারত, চীন, আমেরিকার সম্পর্ক থাকবে। এই পারস্পারিক সম্পর্কের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবে বিশ্ব।
এর আগে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কেরামতিয়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এসময় এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।